বিতর্ক চর্চা কেন?
বিতর্ক চর্চা কেন?
মো. মনজুরুল ইসলাম
নিকট অতীতেও স্কুল কলেজের কথা মনে পড়লে অবলীলায়
বিস্তীর্ণ খেলার মাঠ কিম্বা গাছপালার দৃশ্য চোখের আরশিতে ভেসে উঠতো। দুঃখজনকভাবে
আজ অনেক স্কুল, কলেজ এবং বিশ^বিদ্যালয়ে এমন দৃশ্যপট খুঁজে পাওয়া যায় না। অথচ পূর্বে দেশে যে ক’টি বিশ^বিদ্যালয়ই ছিলো তার প্রত্যেকটিকেই
মনে হতো সবুজ শ্যামলিমায়
ভরা এক একটি করে নতুন বিশ^। বড় বড় দালান, খেলার মাঠ, গাছপালা,
দৃষ্টিনন্দন লেকসহ সবকিছু মিলিয়ে বিশ^বিদ্যালয়
শব্দটি সকল শ্রেণীর মানুষের
কাছে বহন করতো বিশেষ এক তাৎপর্যের। অথচ আজ শহরের কোনো একটি বহুতল ভবনের দু’একটি কক্ষ নিয়ে উচ্চ শিক্ষা কার্যক্রম
শুরু হলেও কেউ আর অবাক হয় না, কাউকেই আশ্চর্য হতে দেখা যায় না। অর্থাৎ প্রাকৃতিক
আবহের উপস্থিতি
ছাড়াই শিক্ষার্থীদের
একটি বড় অংশ উচ্চ শিক্ষার পথ পাড়ি দিচ্ছে। সঙ্গত কারণেই তাদের মানসিক বিকাশ হচ্ছে বাধাগ্রস্থ,
তাদের অস্বাভাবিক
আচরণে সমাজে তৈরী হচ্ছে অস্থিরতা।
বস্তুত সিলেবাসের
পাঠ সম্পন্ন
করে কোনোরকমে
পরীক্ষায় বসাটিই হয়ে উঠছে যেন সেই সব প্রতিষ্ঠানের
প্রধান লক্ষ্য। শিক্ষা গ্রহণের সাথে সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের যে একটি সুদৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে সে বিষয়টি উপেক্ষিতই থেকে যাচ্ছে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। দেশের বেশিরভাগ স্কুল, কলেজ এমনকি বিশ^বিদ্যালয়
পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের
অভিভাবকবৃন্দ আজ মনে করছেন সহ-শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ
করা মানেই তাদের সন্তানদের
একটি অনিশ্চিত
ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেয়া। সঙ্গত কারণেই, সহ-শিক্ষা কার্যক্রমে
যে গতিশীলতার
প্রয়োজন তা আর চোখে পড়ছে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের
যে ধরনের বিকাশমান ফুল হয়ে ফুটবার কথা তাও আর ফুটছে না। হয়ত ভালো বিশ^বিদ্যালগুলোতে
সুযোগ পেয়ে ভালো চাকরিও পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা,
কিন্তু যে ধরনের মননশীল ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবার প্রয়োজন সেটি আর সম্ভব হচ্ছে না।
বিতর্ক সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের
এমনই একটি অনুষঙ্গ যার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থীকে ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা সহজ হয়ে ওঠে, বিতর্কের মাধ্যমেই
একজন শিক্ষার্থী
ন্যায় অন্যায়ের
পার্থক্য উপলব্ধি
করতে সক্ষম হয়। বিশেষত, নিজেকে উপস্থাপন করা সহজ হয়ে উঠে বিতর্ক চর্চার মাধ্যমেই। নন-মেজর বিষয়ের ক্লাস নেয়ার সময় দেখেছি, দুশো থেকে আড়াইশো শিক্ষার্থীকে যদি কোন বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়, অথবা সহজ বিষয়ে কোনো মতামত জানতে চাওয়া হয় সেটি বলতেও তারা ব্যর্থ হয়। এদের মধ্যে অনেকই থাকে যাদের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক
পর্যায়ের ফলাফল অনেক সন্তোষজনক। পক্ষান্তরে,
প্রেষণা প্রদানের
পাশাপাশি যথার্থ প্রশিক্ষণের পর যখন একই বিষয়ে তাদের কাছ থেকে মন্তব্য আহ্বান করা হয় তখন অবলীলায়
তারা বলতে পারে। পাশাপাশি পূর্বের
তুলনায় শ্রেণীকক্ষের
পাঠদানকে উপভোগ করে বলেও তাদের স্বীকারোক্তি
পাওয়া যায়। কারণ উপস্থাপন কিম্বা কথা বলার প্রয়োজনীয়তাকে কেন্দ্র
করে চিন্তার
চাষকে উর্বর করবার বিষয়ে গুরুত্ব প্রদান করা হয়। এবং এ কারণেই বইয়ের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক
সৃষ্টি হয়। তাদের মননের মর্মলোকে
বাস করতে থাকে উন্নত চিন্তার বীজ। ফলতঃ জ্ঞান অর্জনে তাদের ভেতর প্রবল আগ্রহের
সৃষ্টি হয়। অথচ একটা সময় এসব শিক্ষার্থীদের
কাছেই দু’চারজন ব্যক্তির
সামনে সাবলীলভাবে
কোনো বিষয়ে আলোচনা করবার বিষয়টি অকল্পনীয়
বলে মনে হতো। সংকটের কারণ হিসেবে অনুমিতভাবেই
জানা যায় বিতর্ক কিংবা উপস্থাপন চর্চায় তাদের সীমাবদ্ধতার
কথা।
ব্যক্তিগত প্রেক্ষিতের
ক্ষেত্রে সাদা চোখে দেখলে এটি সহজেই প্রতীয়মান হয় যে, প্রাত্যহিক
জীবনে যে সকল সংকটের মধ্যে দিয়ে আমরা আমাদের জীবনকে যাপন করছি তার সমাধান সম্ভব কেবল একটি যুক্তিবাদী ও অনুসন্ধিৎসুনির্ভর জাতি গঠনের মাধ্যমেই। সন্দেহাতীভাবেই যার ভিত রচিত হতে পারে বিতর্কের মধ্য দিয়ে। উন্নত বিশে^ মৌলিক চাহিদার
পরিপন্থী কোনো সিদ্ধান্ত গৃহিত হলে আপামর জনসাধারণ বিক্ষোভে
ফেটে পড়ে। তখন ব্যক্তি কর্তৃক পছন্দের দল রাষ্ট্র ক্ষমতায়
থাকলেও সেটি তার কাছে বিবেচ্য হয়ে ওঠে না। এর কারণ মূলত সেই রাষ্ট্রের
প্রতিটি মানুষের
সচেতন ও প্রতিবাদী মনন। প্রকৃতপক্ষে
এ ধরনের সচেতন মানসিকতা নির্ভর নাগরিক সৃষ্টি সম্ভব কেবল বিতর্ক চর্চার মাধ্যমেই। পাশাপাশি অপরের মতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সহনশীলতার গুণটি আপনাআপনি একজন মানুষের মননে স্থাপিত হয় বিতর্কে অংশগ্রহণের
মাধ্যমেই। যেহেতু বিতর্কে
অংশগ্রহণের মাধ্যমেই
তারা সহজে অনুধাবন করতে পারে- বিতর্কের
মূল উদ্দেশ্য
হলো পরস্পরবিরোধী
যুক্তির মাধ্যমে
কোনো জটিল বিষয়ের সুষ্ঠু সমাধান অনুসন্ধান।
বিতর্ক চর্চা করলেই একজন শিক্ষার্থীকে বই পড়তে হয়, দেশ-বিদেশের
খবরাখবর রাখতে হয়, পরিভ্রমণ
করতে হয় সাধারণ মানুষের
জীবনাচরণের ওপর। এটি করলে তাদের মাঝে বিশ্লেষণী
ক্ষমতার সৌকর্য বৃদ্ধি পায়। তারা তাদের বিষয়গুলোকে
তখন উপভোগের
সাথে পড়তে শেখে। অথচ আমাদের অভিভাবকবৃন্দ তাদের সন্তানদের পাঠ্যবইয়ের
বাইরে কোনো বই পড়তে দেন না, দিতে ভয় পান। পাছে আবার তাদের সন্তান উৎসন্নে যায়। আবার শত চেষ্টা করেও অনেকই তাদের সন্তানদের
পাঠ্য বইমুখী করতে পারেন না। এভাবেই বইয়ের সাথে সম্পর্ক
গড়ে না ওঠায় একটা সময় শিক্ষার্থীরা
পড়াশুনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং রেজাল্টও খারাপ করে। অভিভাবকবৃন্দও চেষ্টা করতে করতে একসময় হাল ছেড়ে দেয়। চূড়ান্ত
অর্থে, শিক্ষা অর্জনের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয় শিক্ষার্থীরা,
ব্যর্থ হয় নিজেদের দায়িত্বশীল
মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে। আজীবনেও
তাদের পক্ষে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হয় না চিন্তার
জড়তা ও অজ্ঞানতা থেকে। একইসাথে
অভিভাবকবৃন্দের কাছে শিক্ষা প্রত্যয়টি
হয়ে উঠে একটি কঠিন বিষয় হিসেবে।
কলেজগুলোর শ্রেণীকক্ষে
আজ যে উপস্থিতি সংকট তার অন্যতম প্রধান কারণ নিয়মিত বিতর্কসহ
সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের চর্চা না থাকা। শুধুমাত্র
ক্লাস পরিচালনার
মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের
ধরে রাখা সমসময়ে অনেক কঠিন। ইউটিউবের কল্যাণে
তারা আজ ইচ্ছে করলেই ঘরে বসে ক্লাস করতে সক্ষম হচ্ছে। সেক্ষেত্রে
শ্রেণীকক্ষের শিক্ষককে
শিক্ষার্থীদের ক্লাসে নিয়ে আসতে যে অতিরিক্ত
পরিশ্রমসহ মায়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের
কাছে টানতে হবে তা অবশ্যম্ভাবী। নিয়মিতই যখন সহ-শিক্ষা কার্যক্রমভিত্তিক অনুষ্ঠানগুলি
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচল থাকবে তখন শিক্ষার্থীদের জোর করে ক্লাসে আনতে হবে না। স্ব-প্রণোদিত
হয়েই তারা প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পর্ক রাখবে।
একটি বিষয় আমরা বুঝতে চাই না, শিক্ষা গ্রহণ কোনো খাদ্যবস্তু
নয় যে তা জোর করে গেলানো যাবে। এর প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির
মাধ্যমে কেবল সম্ভব শিক্ষা গ্রহণের স্বাভাবিক
প্রক্রিয়াকে চলমান রাখা। এবং এটি সম্ভব কেবল তখনই যখন শিক্ষার্থীরা সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের
সাথে নিজেদের
সম্পৃক্ত রাখবে। বিতর্কসহ
সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের অন্যান্য
অনুষঙ্গের সাথে নিজেদের জড়িত রাখবার মাধ্যমেই
সাধারণ শিক্ষার্থীদের
থেকে এগিয়ে থাকা সম্ভব হবে।
মনে রাখতে হবে, বিতর্কের
সঙ্গে যারা জড়িত থাকবে তারা নেশা করা কিংবা মোবাইলে গেম খেলে মূল্যবান
সময় নষ্ট করার কথা চিন্তাও করতে পারবে না। মস্তিকের
উর্বরতা নিশ্চিতে
তাদের নিয়তই দেখা যাবে পাঠাগারের টেবিলে,
খেলার মাঠে আর চিন্তাশীল
মানুষের সাহচর্যে। আর এ কারণেই ভবিষ্যতে সচেতন মানুষ হয়ে তারা সহজেই দায়িত্ব নিতে পারবে পরিবার,
সমাজ ও রাষ্ট্রের। পেশাগত জীবনের প্রতিটি স্তরেই থাকবে নেতৃত্বে। পক্ষান্তরে
সহ-শিক্ষা কার্যক্রমকে বৃদ্ধাগুলি
দেখিয়ে যারা পড়াশুনা চালিয়ে যাবে তাদের পুরো জীবনই আবদ্ধ থাকবে একটি সংকীর্ণ
দেয়ালের মাঝেই। জীবনের সংকটময় মুহূর্তে
সঠিক সিদ্ধান্তটি
নিতে তাদের মুখোমুখি হতে হবে প্রবল প্রতিবন্ধকতার।
প্রাচীন গ্রীসে সঠিক সিদ্ধান্ত
গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা
থেকেই মূলত সূচিত হয়েছিল বিতর্কের। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
গ্রহণে বিতর্কের
মধ্য দিয়েই স্বাগত জানানো হতো সঠিক সিদ্ধান্তটিকে। সেহেতু ১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দে নরফলক প্রিজন কলোনিতে
যে বিতর্ক সংঘের আনুষ্ঠানিক
যাত্রা শুরু হয়েছিল তার চর্চা আজও পৃথিবীজুড়ে অব্যাহত
রয়েছে। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশে এর চর্চা শুরু হয়ে আজ অবধি সচলমান রয়েছে। আমেরিকাসহ পৃথিবীর
উন্নত রাষ্ট্রগুলিতে
আজ নির্বাচনের
পূর্বে রাষ্ট্র
প্রধানের দায়িত্বপ্রত্যাশী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বিতর্কের
মাধ্যমেই তাদের মেধা, রাষ্ট্রের
প্রতি তাদের দায়বোধ প্রকাশের
চেষ্টা করেন। সম্মোহনের
চেষ্টা করেন সাধারণ মানুষের
আবেগকে। বস্তুত একজন মানুষের বুদ্ধিমত্তা
তার জ্ঞানের
গভীরতা থেকে সহজেই উপলব্ধি
করা যায়। বিতর্কের
সাথে সম্পৃক্ত
শিক্ষার্থীরা স্বল্প বয়স থেকেই নিজেদের জ্ঞানকে
সমৃদ্ধ করবার সুযোগ পান।
ব্যক্তিগত জীবনে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত
গ্রহণে বিতর্কের
পরোক্ষ ভূমিকাটিও
অনস্বীকার্য। একজন মানুষ যখন গুরুত্বপূর্ণ
সিদ্ধান্ত গ্রহণে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি অবলম্বন করবেন অর্থ্যাৎ বিকল্প সমাধানগুলি কতিপয় প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিত্বের
কাছ থেকে গ্রহণ করবেন তখন সেই সিদ্ধান্তের ওপর ভর করে তিনি সর্বোচ্চ
যৌক্তিক সিদ্ধান্তটি
গ্রহণ করতে পারবেন। দুঃখজনক হলেও সত্য, প্রবীণ ব্যক্তিদের কাছ থেকে মতামত গ্রহণের ক্ষেত্রে
আমাদের উদাসীনতা
আজ স্পষ্ট। অথচ উন্নত দেশগুলিতে
প্রবীণ ব্যক্তিদের
স্বাস্থ্য, শিক্ষা,
অর্থনীতি থেকে শুরু করে সর্ববিষয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে
মতামত গ্রহণের
ব্যবস্থা রয়েছে। তারা যেন তাদের অভিজ্ঞতাগুলো বিনিময় করতে পারে সেজন্য প্রবীণ বয়সে তাদের মৌলিক অধিকার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে
যাতে কোনো প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি না হয় সেদিকে রাষ্ট্র
সতর্ক থাকছে। এ কারণেই সমস্যা শুরু হবার পূর্বেই সমাধানের
উদ্যোগ গ্রহণ অনেক সহজ হয়ে উঠছে রাষ্ট্রের জন্য সেই প্রবীণ ব্যক্তিদের অমূল্য মন্তব্য গ্রহণের
মাধ্যমেই। ‘ Always share your ideas and respect grey hair’ বহুল প্রচলিত
এই ধারণাটির
প্রয়োগ আজ আমাদের দেশের জন্য সময়ের দাবি।
সার্বিক প্রেক্ষিত
বিবেচনায়, প্রকৃত শিক্ষা অর্জনে বিতর্কসহ সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের
প্রয়োজনীয়তা যে অপরিসীম তা অস্বীকার করবার কোনো উপায় নেই। বিতর্ক কিম্বা বক্তব্য উপস্থাপন
চর্চাকে পাঠ্যক্রমের
সাথে সংশ্লিষ্ট
করা যায় কিনা সেটিও ভাবা জরুরী। বিষয়টিকে
যখন পাঠ্যক্রমের
সাথে রাখা হবে তখন শিক্ষার্থীদের সংযুক্ত
করা সহজ হবে। পদ্ধতিটি হতে পারে এরকম- একটি ক্লাসে ৫০ জন শিক্ষার্থী থাকলো। সেখানে কুড়ি জন বিতর্ক চর্চায় অংশগ্রহণ করলো। বাকী ত্রিশ জন শিক্ষার্থী উপস্থাপনা
চর্চায় ব্যাপৃত
থাকলো। নির্দিষ্ট বিষয়ে উপস্থাপন করবার মাধ্যমটিকে সেক্ষেত্রে
মূল্যায়নের মাপকাঠি
হিসেবে বিবেচনা
করা যেতে পারে। সেখানে প্রশ্নোত্তর
পর্বের ব্যবস্থাও
রাখা যেতে পারে। নির্ধারিত বিষয়ে উপস্থাপন এবং বিতর্ক আয়োজনের
মাধ্যমে অবলীলায়
একটি জ্ঞানগর্ভ
আবহের সৃষ্টি হবে প্রতিষ্ঠানগুলোতে। শিক্ষার্থীরা
খুশির মধ্যে দিয়েই অবচেতনাতেই
নিজেকে একজন চিন্তাশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ভিত রচনা করতে পারবে। একই সাথে সভ্য ও জ্ঞানভিত্তিক
রাষ্ট্র সৃষ্টির
যে প্রত্যাশা
তার শেকড় স্থাপিত হতে পারে এভাবেই। অর্থ্যাৎ
বিতর্ক চর্চাকে
যখন আনুষ্ঠানিক
আবহে রূপদান করা হবে তখন তা প্রকৃত শিক্ষা অর্জনে মহার্ঘ্য
হিসেবে কাজ করবে। যাই হোক, স্কুল, কলেজ থেকে শুরু করে বিশ^বিদ্যালয়
পর্যন্ত শ্ক্ষিার্থীরা
বিতর্ক চর্চা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে
অংশগ্রহণের পাশাপাশি
বই পাঠে নিমগ্ন থাকুক, নিজেদের গড়ে তুলুক একজন দায়িত্বসম্পন্ন বিশ^নাগরিকের বোধ নিয়ে এটি বিতর্ক সংঘ, কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের প্রত্যাশা।
লেখক: শিক্ষক,
কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ।
Comments
Post a Comment